প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের আগের আদেশ বাতিল করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে গত ২৪ মে একই আদালত সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে নতুন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই আদেশ এখন বাতিল করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান জানান, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। এত দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উত্তোলন করলেও কার্যকর কোনো আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। পাশাপাশি এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহকে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। এমন একটি স্থান থেকে মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা, প্রতিবাদ কিংবা সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে অভিনেতার মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী) এবং মামলার বাদীও আপত্তি জানিয়েছেন।
শুনানির সময় মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মারা যান জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্র তারকা। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আত্মহত্যা না হত্যা—এ নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা চলেছে।
প্রায় ২৯ বছর পর, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর অভিনেতার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।



