ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। শনিবার তাঁকে আটকের পর একই দিন ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মুক্তি পাওয়ার পর ধ্রুব রাঠি দাবি করেছেন, ঘটনাটি সাধারণ আটক বা গ্রেপ্তার ছিল না; বরং তাঁকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা যাতে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। যন্তর মন্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবহন পরিষেবাও বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় দিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিগামী ট্রেন ও বাসসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়। ফলে আন্দোলনে অংশ নিতে রাজধানীতে আসতে চাওয়া ব্যক্তিদের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে।
যন্তর মন্তরের আশপাশে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নেওয়া এসব পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন অংশ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে শনিবারই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্ত হওয়ার পর নিজের আটকের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে আইনগতভাবে আটক বা গ্রেপ্তার করেনি; তাঁকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেটিকে তিনি ‘অপহরণ’ হিসেবে দেখছেন।
তবে ধ্রুব রাঠির এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব অভিযোগ। তাঁকে আটকের কারণ, কতক্ষণ হেফাজতে রাখা হয়েছিল কিংবা তাঁর ‘অপহরণের’ অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া তথ্যে উল্লেখ নেই।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিক্ষোভ ঘিরে ধ্রুব রাঠিকে আটক ও পরে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানীতে পরিবহন ও ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগও সামনে এসেছে।


