ইসরায়েলের আগামী সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন এবার টলটলায়মান। বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক জরিপে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের দল ‘ইয়াশার’ নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’কে পেছনে ফেলেছে। তবে দুই পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে।
এমন সংকটময় মুহূর্তে কূটনৈতিক সংযম সরিয়ে রেখে নেতানিয়াহুর পাশে সরাসরি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের মাত্র ৯ দিন আগে নেতানিয়াহুকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলি ভোটারদের ওপর প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টি করেছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেতানিয়াহু না থাকলে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই কাজ চালাতে হবে। এ সমর্থনকে লুফে নিয়ে নেতানিয়াহু ইরানভীতিকে নির্বাচনী ট্রাম্পকার্ড বানাতে চাইলেও বিরোধী নেতারা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ‘ইয়াশার’ প্রধান আইজেনকট একে নির্বাচনে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। জরিপগুলো বলছে, ট্রাম্পের এই বার্তা ভোটারদের রায়ে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না।
এদিকে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনেও মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যু বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বিশ্বরাজনীতি যেখানে মুখোমুখি, সেখানে ডেমোক্র্যাটিক দল থেকে মিশিগানের সিনেট পদপ্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ, নিউইয়র্কের কংগ্রেস প্রার্থী ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে ও ব্রাড ল্যান্ডারদের মতো প্রগতিশীল নেতারা ইসরায়েলে সব ধরনের সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের তীব্র দাবি জানাচ্ছেন। দূরের যুদ্ধে অর্থ ঢালার বিপরীতে মার্কিন নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও বিদ্যালয়-হাসপাতালের উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের দাবিই এখন নির্বাচনী ময়দানে প্রধান হয়ে উঠেছে।


