দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম শনাক্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৬ জনে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ৯৯ জন।
অর্থাৎ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, হাম শনাক্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা এখন ৯৮৬।
মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৬৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। একই সময়ে পরীক্ষা করে ৮০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৫২৭ জনের শরীরে।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন বয়সী মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বা মৃত্যুর হার বেশি, তা এই পরিসংখ্যান থেকে আলাদাভাবে জানা যাচ্ছে না।
রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এ কারণে হামের প্রাদুর্ভাবের সময় শিশুদের পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখার প্রয়োজন হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ‘হাম শনাক্ত’ এবং ‘হামের উপসর্গ’ নিয়ে মৃত্যুর তথ্য আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। সর্বশেষ হিসাবে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৮৭ জনের।
রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, প্রাদুর্ভাব চলাকালে হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, সেগুলোকে সামগ্রিকভাবে হামে মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নিশ্চিত শনাক্ত এবং উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে পৃথকভাবেই দেখানো হচ্ছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। নতুন করে ৯৬৪ জনের শরীরে উপসর্গ দেখা দিলেও নিশ্চিতভাবে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৮০ জনের। ফলে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হিসাব অনুযায়ী সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যে এক লাখ ৬১ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি।
এর মধ্যে এক লাখ ৩৬ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। তবে নতুন রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করছে। বৃহস্পতিবারের হিসাবে নতুন তিনটি মৃত্যুসহ গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮৬-তে পৌঁছাল। একই সময়ে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২৭ এবং সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জনে।


