মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

ত্বকে ছোট ছোট গুটি বা আঁচিল খুব পরিচিত একটি সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আঁচিল ক্ষতিকর নয় এবং ক্যানসারে রূপ নেয় না। তবে দেখতে অস্বস্তিকর লাগতে পারে, শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অবস্থানভেদে ব্যথার কারণও হতে পারে।

বিশেষ করে পায়ের তলায় আঁচিল হলে হাঁটার সময় সেখানে চাপ পড়ে ব্যথা হতে পারে। আবার গলা বা ঘাড়ের মতো জায়গায় হলে কাপড়ের সঙ্গে বারবার ঘষা লেগেও অস্বস্তি বা ব্যথা তৈরি হতে পারে।

আঁচিল তৈরির পেছনে রয়েছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি। ভাইরাসটি ত্বকের ওপরের স্তরে প্রবেশ করে কোষের সংখ্যা বাড়িয়ে দিলে আঁচিল তৈরি হতে পারে। ত্বকে ছোট কাটা, ফাটল বা ক্ষত থাকলে ভাইরাসটির প্রবেশ সহজ হয়।

অনেকেই জানেন না, ভাইরাসজনিত আঁচিল সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির আঁচিল সরাসরি স্পর্শ করলে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। একইভাবে তোয়ালে, রেজার বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের অন্যান্য সামগ্রী ভাগাভাগি করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

এমনকি নিজের শরীরেও আঁচিল ছড়িয়ে পড়তে পারে। আঁচিল বারবার খোঁচানো, কামড়ানো বা ঘষার কারণে ভাইরাস শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে নতুন আঁচিল তৈরি করতে পারে।

শরীরের কোন জায়গায় হয়েছে এবং দেখতে কেমন, তার ওপর ভিত্তি করে ভাইরাল ওয়ার্ট বা আঁচিল বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কমন ওয়ার্ট সাধারণত হাত, আঙুল, নখের আশপাশ ও কনুইয়ে দেখা যায়। এগুলো সাধারণত শক্ত ও খসখসে হয়ে থাকে।

পায়ের তলায় হওয়া আঁচিলকে প্ল্যান্টার ওয়ার্ট বলা হয়। হাঁটার সময় শরীরের চাপ পড়ায় এটি ত্বকের ভেতরের দিকে বাড়তে পারে। ফলে হাঁটাচলায় ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর মধ্যে ছোট কালো বিন্দুও দেখা যায়।

ফ্ল্যাট ওয়ার্ট তুলনামূলকভাবে ছোট, মসৃণ ও চ্যাপটা হয়। মুখ, হাত কিংবা পায়ে একই সঙ্গে অনেকগুলো দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে ফিলিফর্ম ওয়ার্ট সরু ও সুতার মতো লম্বাটে হয়ে থাকে এবং সাধারণত মুখমণ্ডলের আশপাশে দেখা যায়।

জেনিটাল ওয়ার্ট যৌনাঙ্গ বা এর আশপাশে হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট ধরনের এইচপিভির কারণে এটি তৈরি হয় এবং সাধারণত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এ কারণে জেনিটাল ওয়ার্টকে যৌনবাহিত সংক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ত্বকের ওপর শক্ত বা মাংসল গুটি, খসখসে উপরিভাগ এবং কখনো ছোট কালো বিন্দু আঁচিলের সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য। তবে ত্বকের সব গুটিই আঁচিল নয়। তাই কোনো গুটি দ্রুত বড় হতে থাকলে, রক্তপাত হলে কিংবা এর রং, আকৃতি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অনেক আঁচিলের জন্য আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কয়েক মাস থেকে কয়েক বছরের মধ্যে এগুলো নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে আঁচিলের কারণে ব্যথা হলে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কিংবা সৌন্দর্যগত কারণে অস্বস্তি তৈরি হলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

আঁচিল হলে সেটি খোঁচানো, কামড়ানো বা বারবার ঘষা উচিত নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করাও এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল তুলে ফেলার চেষ্টা নিয়ে। ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা, সুতা দিয়ে বেঁধে রাখা কিংবা চুন-সুপারি বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করলে সমস্যার সমাধানের বদলে রক্তপাত, সংক্রমণ, ত্বক পুড়ে যাওয়া কিংবা স্থায়ী দাগ তৈরি হতে পারে।

আঁচিল দ্রুত বাড়তে থাকলে, শরীরে একসঙ্গে অনেক নতুন আঁচিল দেখা দিলে, ব্যথা বা রক্তপাত হলে কিংবা ত্বকের গুটিটি সত্যিই আঁচিল কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই উচিত।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version