রাঙামাটির সাজেকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঘটে চলা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। উপরিতল থেকে দেখলে এটিকে কেবল বিকাশমান পর্যটনশিল্পের জন্য একটি আইনশৃঙ্খলাজনিত সংকট এবং কেবল অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমেই সমাধানযোগ্য মনে হতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কোনো একক সমস্যা নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রাজনৈতিক ও কাঠামোগত সংকটের একটি দৃশ্যমান উপসর্গ মাত্র।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের মূল সংকটকে চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বারবার কেবল দৃশ্যমান উপসর্গের ওপর সাময়িক প্রশাসনিক বা নিরাপত্তামূলক ‘ব্যবস্থাপনা’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রোগ নির্ণয় না করে কেবল উপসর্গের চিকিৎসা দেওয়ার এই প্রবণতার কারণে মূল সমস্যাটি আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।
দেশের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মাঝে ধারণা জন্মেছে যে সংঘাত, সশস্ত্র দল-উপদলের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘাত, পাল্টাপাল্টি হত্যা, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি কিংবা সাজেকের মতো পর্যটন এলাকায় দফায় দফায় সড়ক অবরোধই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, এসব সহিংস ঘটনা কোনো মূল কারণ নয়; বরং দশকের পর দশক ধরে ঝুলে থাকা রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক মূল সংকটেরই বহুমাত্রিক ও উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ।


