আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে যৌথভাবে প্রার্থী দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো নিজ নিজভাবে প্রার্থী দেবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই ঐক্যের ভিত্তিতে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। বরং জোটে থাকা দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেবে এবং নির্বাচনে অংশ নেবে।
আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতও প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানান তিনি। দলের স্থানীয় শাখাগুলোকে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি জামায়াতের আস্থা এখনো রয়েছে বলেও জানান গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন বর্জনের মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলটি প্রস্তুতি অব্যাহত রাখছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের একজন অতিরিক্ত সচিবকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ওই কর্মকর্তা বিএনপির একটি পদে রয়েছেন। এমন অবস্থায় তাঁকে দায়িত্বে রেখে নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে দলটি।
তিনি বলেন, এ কারণেই সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই কর্মকর্তাকে সরকার নিয়োগ দিয়েছে।
বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ধরনের বিধানকে সংবিধানবিরোধী বলে মনে করছে জামায়াত।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন নিজেই এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে সেই সুপারিশ বাতিলের দাবি আবারও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবেন, সে বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে জামায়াত। বিশেষ করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো নেতা যাতে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে দলটি।
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত, অন্যদিকে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয় নিয়ে আপত্তি ও দাবি জানিয়েছে দলটি।
এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবকে সরানো, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রার্থিতা ঠেকানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যে ১১ দলীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, স্থানীয় পর্যায়ে সেটিকে নির্বাচনী জোট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে শরিক দলগুলো আলাদা প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামবে।
জামায়াতও সেই অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী বিধিবিধান নিয়ে দলটির যেসব আপত্তি রয়েছে, সেগুলোর সমাধানের দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

