আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘ধোঁকাবাজ, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের’ বর্জন করে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিল ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রেজাউল করীম বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তবে স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই এসব লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে দেশে শ্রমিকবান্ধব অর্থনৈতিক ও শ্রমব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তাঁর মতে, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চরমোনাই পীর। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের দায়িত্বশীল নেতাদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের পক্ষে সাংগঠনিকভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান।
অটোরিকশাচালকদের বিষয়ে সরকারের উদ্দেশে রেজাউল করীম বলেন, তাঁদের ওপর জুলুম-নির্যাতন না করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চালানোর সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা ও অধিকার রক্ষা করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দ্রুত শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনও বক্তব্য দেন। শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিল থেকে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও ঘোষণা করা হয়। এতে মুহাম্মাদ খলিলুর রহমানকে সভাপতি, কে এম বিল্লাল হোসাইনকে সহসভাপতি এবং এইচ এম রফিকুল ইসলামকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।


