মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভব সূর্যবংশী যেভাবে ব্যাট হাতে দাপট দেখাচ্ছেন, তাতে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্বের অনেক সাবেক তারকা। ভারতের এই তরুণ ব্যাটসম্যানের ভয়ডরহীন ব্যাটিং নজর কেড়েছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গতিতারকা ব্রেট লিরও। তবে সূর্যবংশীর বিপক্ষে নিজে বল করতে হলে কী কৌশল নিতেন, সেটিও জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই পেসার।
ভারতের বিয়ারবাইসেপস ইউটিউব চ্যানেলে সূর্যবংশীর বিপক্ষে তাঁর সম্ভাব্য বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রেট লি জানান, তরুণ এই ব্যাটসম্যানের হুক ও পুল শটের দক্ষতাকেই চ্যালেঞ্জ জানাতেন তিনি। এজন্য শর্ট বলকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। শুধু একবার নয়, প্রয়োজন হলে বারবার শর্ট বল করে সূর্যবংশীকে পরীক্ষা করতেন।
ব্রেট লির ভাষায়, কোনো ব্যাটসম্যান ভালো হুক বা পুল খেলতে পারলে তিনি সেটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পছন্দ করতেন। কারণ এতে বোলার ও ব্যাটসম্যানের মধ্যে লড়াই আরও জমে ওঠে। সূর্যবংশীর বিপক্ষেও একই ধরনের পরিকল্পনা থাকত তাঁর।
সূর্যবংশীর ব্যাটিং বিশ্লেষণ করে সুযোগ বুঝে হেলমেটের কাছাকাছি বল করার কথা জানিয়েছেন লি। তাঁর মতে, এমন বলেও সূর্যবংশী হয়তো ছক্কা মেরে দিতে পারতেন। কিন্তু তাতেও তিনি নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে যেতেন না।
তরুণ এই ব্যাটসম্যানের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ হিসেবে লির কাছে বিশেষভাবে মনে ধরেছে আইপিএলের একটি ইনিংস। সর্বশেষ আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৯৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সূর্যবংশী। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের প্রচণ্ড গতির বলের বিপক্ষেও তিনি ভয়ডরহীন ব্যাটিং করেছিলেন।
ব্রেট লি সেই ইনিংসের প্রশংসা করে বলেন, সূর্যবংশী অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বিপক্ষে ৯৭ রান করেছেন, যারা প্রচণ্ড গতিতে বল করছিল। অথচ নাকের সামনে আসা বলও তিনি হুক করছিলেন। একই সঙ্গে সঠিক ক্রিকেটীয় শট খেলার পাশাপাশি তাঁর ব্যাটিংয়ে অসাধারণ শক্তিও দেখা গেছে বলে মনে করেন লি।
আইপিএল ২০২৬-এ রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন সূর্যবংশী। ১৬ ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৭৭৬ রান। পুরো আসরজুড়েই ছিল তাঁর আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষেও তিনি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করেছেন।
এই পারফরম্যান্সের পর দ্রুতই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নেন সূর্যবংশী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইংল্যান্ড সিরিজে তাঁর শুরুটা অবশ্য প্রত্যাশামতো হয়নি। তবে জিম্বাবুয়ে সফরে তিনি নিজেকে দ্রুত সামলে নেন এবং সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
সূর্যবংশীর বয়সও এখন ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার অন্যতম বিষয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন পরিণত ব্যাটিং কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে ভারতের বাইরেও আলোচনা রয়েছে। তবে ব্রেট লির কাছে বয়সের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলোয়াড়টির সামর্থ্য ও পারফরম্যান্স।
ব্রেট লি মনে করেন, সূর্যবংশীর বয়স ১৫, ১৭ কিংবা ১৮—যাই হোক না কেন, সেটি তাঁর ক্রিকেটীয় সামর্থ্যকে মূল্যায়নের মূল বিষয় হওয়া উচিত নয়। বরং তিনি যেভাবে খেলছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূর্যবংশীর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে তাঁর ভয়ডরহীন মানসিকতা সামনে এসেছে। বয়সে অনেক ছোট হলেও বিশ্বের দ্রুতগতির বোলারদের সামনে পিছিয়ে না গিয়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছেন তিনি। শর্ট বলের বিপক্ষে হুক ও পুল শট খেলার আত্মবিশ্বাসও তাঁর ব্যাটিংয়ের অন্যতম শক্তি।
আর এই জায়গাটিই ব্রেট লির মতো একজন সাবেক গতিতারকার কাছে সূর্যবংশীকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কারণ দ্রুতগতির বোলারের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানের প্রতিক্রিয়া এবং শর্ট বল মোকাবিলার সামর্থ্যকে একজন পেসার হিসেবে লি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তাই সূর্যবংশীর বিপক্ষে বল করার সুযোগ পেলে লি তাঁকে সহজে ছাড় দিতেন না। বরং তাঁর শক্তির জায়গাকেই চ্যালেঞ্জ করে হেলমেটের কাছাকাছি শর্ট বল করতেন। সূর্যবংশী পাল্টা ছক্কা মারলেও পরিকল্পনা বদলানোর বদলে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে যেতে চাইতেন এই সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার।
ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানের শক্তির জায়গাকে লক্ষ্য করে বোলিং করা নতুন কিছু নয়। তবে মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ব্রেট লির এমন মন্তব্যই দেখিয়ে দিচ্ছে, সূর্যবংশীর পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে সাবেক ক্রিকেট তারকাদের কাছেও কতটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, এরপর ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে সূর্যবংশীর সামনে এখন বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে গেছে। তাঁর বয়স নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্রেট লির মতো তারকারা বলছেন, শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট মাঠে সামর্থ্য ও পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় পরিচয়।


