ইংল্যান্ডের জার্সিতে গতির ঝড় তুলে দীর্ঘদিন ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিয়েছেন মার্ক উড। কিন্তু ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় তাঁকে লড়তে হয়েছে চোটের সঙ্গেও। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে ইতি টেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের এই পেসার।
আগামী জানুয়ারিতে ৩৭ বছরে পা দিতে যাওয়া উডের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছিল। গত নভেম্বরে অ্যাশেজে পার্থে প্রথম টেস্ট খেলার সময় হাঁটুতে চোট পান তিনি। সেই ম্যাচের পর আর ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে ফিরতে পারেননি।
দীর্ঘ পুনর্বাসন ও মাঠে ফেরার চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক অবস্থায় ফিরতে পারেননি উড। ফলে জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার।
ইংল্যান্ডের হয়ে সব সংস্করণ মিলিয়ে ১৪৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন উড। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২৫৩ উইকেট। গতি ছিল তাঁর বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তবে একই সঙ্গে চোটও হয়ে উঠেছিল ক্যারিয়ারের নিয়মিত সঙ্গী। বিভিন্ন সময়ে চোটের কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে।
অবসরের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর জন্যও উড বেছে নিয়েছেন ক্রিকেট মাঠকেই। ডারহামের রিভারসাইড গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ম্যাচে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও এখনই সব ধরনের ক্রিকেট ছাড়ছেন না উড। আপাতত ডারহামের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগেও খেলা চালিয়ে যেতে চান।
ক্রিকেটের পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শুরু করেছেন এই ইংলিশ পেসার। লেভেল-৩ কোচিং কোর্সের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মিডিয়ায় কাজ করার আগ্রহও রয়েছে। ফলে মাঠে খেলার পাশাপাশি ধারাভাষ্য ও ভবিষ্যতে কোচিংয়েও তাঁকে দেখা যেতে পারে।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সঙ্গে উডের কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদও আগামী সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা। সেই চুক্তি আর বাড়ানো হচ্ছে না—এটি নিশ্চিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অবসরের পেছনে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কথাও জানিয়েছেন উড। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্রমাগত চোট কাটিয়ে ফেরার চেষ্টা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
উড বলেন, পার্থে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। প্রায় দেড় বছর ধরে চোটের বিরুদ্ধে লড়াই তাঁকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে তাঁর মনে হয়েছে আগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে উডের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তাঁর গতি। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে এমন সময়ে তিনি আলাদা মাত্রা যোগ করতেন, যখন দলের প্রয়োজন হতো বাড়তি গতির। ঘণ্টায় ৯০ মাইলের বেশি গতিতে নিয়মিত বল করার সামর্থ্যের কারণে টেস্ট থেকে সীমিত ওভারের ক্রিকেট—সব সংস্করণেই ইংল্যান্ডের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন তিনি।
তবে সেই গতির মূল্যও দিতে হয়েছে শরীরকে। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে গোড়ালি, কনুইসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের চোটে পড়েছেন। বারবার পুনর্বাসনের পর মাঠে ফিরেছেন, আবারও ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বল করেছেন। শেষ পর্যন্ত হাঁটুর সমস্যাই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনে দিল।
এখন উডের লক্ষ্য নিজের ওপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ কমিয়ে ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট উপভোগ করা। একই সঙ্গে মিডিয়া ও কোচিংয়ের মাধ্যমে ক্রিকেটের সঙ্গেই যুক্ত থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
১৪৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ২৫৩ উইকেট এবং গতিনির্ভর এক ক্যারিয়ার—এই পরিসংখ্যান নিয়েই ইংল্যান্ডের জার্সিতে মার্ক উডের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও এখনই ক্রিকেট মাঠ থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না এই ইংলিশ পেসার।


