শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও মন জয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, হাজীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসে আয়োজিত ‘সরকারি মাধ্যমের হজ গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ১৮ জন হজ গাইডকে পুরস্কৃত করা হয়।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু নিবন্ধন কিংবা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজীদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়া, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফার আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করা এবং শেষে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই হজ ব্যবস্থাপনার প্রকৃত সাফল্য নিহিত।
বিগত হজের ব্যবস্থাপনার বড় একটি অংশ আগের সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছিল—এমন দাবির সঙ্গেও দ্বিমত প্রকাশ করেন তিনি। ধর্মমন্ত্রীর ভাষ্য, নিবন্ধন এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। মূল চ্যালেঞ্জ ছিল হজের পুরো সময় হাজীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। রিয়াদে সৌদি আরবের হজমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সাক্ষাতে সৌদি হজমন্ত্রী বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।
হাজীদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হাজীদের জন্য এক লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং এবং নারী হাজীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া কোনো হাজীর লাগেজ হারায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
হজ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে কায়কোবাদ বলেন, বাংলাদেশি হাজীদের সহযোগিতায় পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমান, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। হাজীদের সেবাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজেকে জনগণের ‘খাদেম’ বলেও অভিহিত করেন।
হজের শেষ ফ্লাইটের দিনের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, হজ ক্যাম্প প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) একজন কর্মকর্তা তাঁকে ফোন করে জানান, ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন নারী ও একজন পুরুষ হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে না পেরে কান্নাকাটি করছেন।
ধর্মমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রয়োজন হলে নিজে টিকিটের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এনএসআই কর্মকর্তাকে দ্রুত ওই দুই হজযাত্রীকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁদের সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয়।
হজ গাইডদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ভালো কাজের জন্য গাইডদের পুরস্কৃত করার সুযোগ আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার হজ গাইডদের কঠোর পরিশ্রম ও হাজীদের সেবায় তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গাইডদের দেওয়া সম্মাননা তাঁদের সেবার তুলনায় সামান্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। আগামী হজ আরও সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও পরামর্শও চান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এনডিসি লাগেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। গত বছরের অব্যবহৃত অর্থ হাজীদের ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব), ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্ফ প্রশাসন ও হজ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

