সন্তানের নাম কী হবে—এ নিয়ে প্রতিটি পরিবারেই থাকে আলাদা ভাবনা। কেউ পরিবারের পূর্বপুরুষের নামের সঙ্গে মিল রাখেন, কেউ পছন্দের কোনো ব্যক্তির নাম বেছে নেন। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার বাসিন্দা ফরিদও নিজের সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে বেছে নিয়েছেন তাঁর পছন্দের একজন মানুষের নাম। প্রয়াত ইসলামি বক্তা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে নিজের ছেলের নাম রেখেছেন ‘সাঈদী’।
ফরিদের বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। ছেলের জন্মের পর পরিবারের পক্ষ থেকে নাম ঠিক করার সময় তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামের সঙ্গে মিল রেখে সন্তানের নাম রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
ফরিদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো জটিল কারণ নেই। সাঈদীর বক্তব্য ও পরিচিতির প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ভালো লাগা থেকেই সন্তানের নামের সঙ্গে ‘সাঈদী’ যুক্ত করেছেন তিনি। প্রিয় ব্যক্তির স্মৃতি নিজের সন্তানের নামের মধ্য দিয়ে ধরে রাখার ইচ্ছাই এখানে প্রধান হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে পছন্দের আলেম, শিক্ষক, সাহিত্যিক কিংবা পরিবারের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তির নাম অনুসরণ করে সন্তানের নাম রাখার ঘটনা নতুন নয়। অনেক মা-বাবা সন্তানের জন্য এমন একটি নাম বেছে নেন, যার সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত আবেগ বা স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। ফরিদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে ইসলামি বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিতি পান। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যও ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সাঈদীর মৃত্যুর পরও তাঁর ধর্মীয় বক্তব্য ও পুরোনো ওয়াজের ভিডিও অনলাইনে প্রচারিত হতে দেখা যায়। তাঁর অনুসারীদের অনেকের কাছে মূল পরিচয় ছিল ইসলামি বক্তা হিসেবে। হাতীবান্ধার ফরিদের সন্তানের নামকরণের ঘটনাটিও সেই ব্যক্তিগত অনুরাগের একটি প্রকাশ।
তবে ফরিদ তাঁর ছেলের পুরো নাম কী রেখেছেন, শিশুটির জন্মতারিখ কী, ফরিদ কী পেশায় যুক্ত কিংবা হাতীবান্ধার ঠিক কোন ইউনিয়ন বা গ্রামের বাসিন্দা—এসব বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই নিশ্চিত তথ্য ছাড়া প্রতিবেদনে সেগুলো যুক্ত করা হয়নি।
ফরিদের এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু মূলত একজন বাবার ব্যক্তিগত পছন্দ। নিজের পছন্দের একজন ধর্মীয় বক্তার নাম সন্তানের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি সেই স্মৃতি ধরে রাখতে চেয়েছেন।
সন্তানের নাম একজন মানুষের সঙ্গে সারা জীবন থেকে যায়। সেই বিবেচনায় ফরিদের কাছে নামটি শুধু একটি পরিচয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অনুভূতিও। আর সেই অনুভূতি থেকেই লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার এই বাবা নিজের ছেলের নাম রেখেছেন সাঈদীর নামে।
