ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে গত বুধবার ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউটরের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির ককপিটের ভেতর সহকারী পাইলট বিশেষ ধরনের কুঠার বা ‘ক্র্যাশ অ্যাকস’ দিয়ে প্রধান পাইলটকে আঘাত করেন।
ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউটর সহকারী পাইলটের কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তদন্তে সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ককপিটের ভেতরেই। সেখানে থাকা ‘ক্র্যাশ অ্যাকস’ ব্যবহার করে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে।
‘ক্র্যাশ অ্যাকস’ সাধারণ কোনো কুঠার নয়। উড়োজাহাজে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এটি রাখা হয়। কোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি অবস্থায় উড়োজাহাজের কোনো অংশ কেটে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে বিশেষ এই সরঞ্জাম ব্যবহার করা যায়। সে কারণেই এটি ককপিটের ভেতরে সংরক্ষিত থাকে।
তবে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা সেই সরঞ্জামই প্রধান পাইলটের ওপর হামলায় ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ঠিক কী পরিস্থিতিতে সহকারী পাইলট এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা ঘটনার আগে ককপিটে কী হয়েছিল—সরবরাহ করা তথ্যে এসব বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাবলিক প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটিকে নিছক দুই পাইলটের মধ্যে বিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সহকারী পাইলটের কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করায় বিষয়টি এখন গুরুতর তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
ককপিট একটি উড়োজাহাজের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলোর একটি। সেখান থেকেই পাইলট ও সহকারী পাইলট পুরো ফ্লাইট পরিচালনা করেন। ফলে ককপিটের ভেতর এমন হামলার অভিযোগ যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের ঘটনাটি নিয়ে তদন্তে আরও তথ্য সামনে এলে সহকারী পাইলটের কর্মকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং পুরো ঘটনার পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, জরুরি প্রয়োজনে ককপিটে রাখা ‘ক্র্যাশ অ্যাকস’ দিয়েই প্রধান পাইলটকে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে।

