দেশের বাজারে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে ঘাটতি চলছে। এতে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসে একই পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে সরবরাহসংকটের কারণে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না অনেক ক্রেতা।
বাজারে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছিল। অর্থাৎ আগের নির্ধারিত দামের তুলনায় ক্রেতাদের কয়েক শ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরবরাহঘাটতির কারণে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস নেই, সেখানে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় সংকটের প্রভাবও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
এর মধ্যেই নতুন করে দাম বাড়ায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৮০০ টাকার সীমা ছাড়িয়ে গেল। আগের মাসের তুলনায় একবারেই দাম বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
তবে নতুন মূল্য নির্ধারণের পর বাজারে এলপিজির সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে নির্ধারিত দামের তুলনায় বর্তমানে যে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে, সেই ব্যবধানও কমে আসতে পারে।
এখন ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নতুন নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কার্যকর হয় কি না। কারণ নতুন দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সাম্প্রতিক বাজারদর ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তাদের বাড়তি দাম দেওয়ার চাপ পুরোপুরি কাটছে না।

