জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের উড়োজাহাজ ক্রয়ের উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আগামী এক দশকের মধ্যে ধাপে ধাপে মোট ৩৫টি নতুন যাত্রীবাহী বিমান বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থা। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন বিশাল অঙ্কের আর্থিক দায়ভার বহন করার সক্ষমতা নিয়ে নানা মহলে অস্বস্তি ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিমান ক্রয়ের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত দর-কষাকষির প্রেক্ষাপটে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৫টি বিমান কেনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিমান কর্তৃপক্ষ বোয়িং থেকে আরও ১০টি বিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকেও অতিরিক্ত ১০টি বিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে। ফলে দুই প্রধান নির্মাতা সংস্থার কাছ থেকে সর্বমোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে বিমানের বহরে, যা আগামী ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।
উড়োজাহাজ ক্রয়ে এমন মহাপরিকল্পনা সামনে আসতেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা স্পষ্ট নয়।
২০০৭ সালে বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের সময় গঠিত প্রথম পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও তৎকালীন নীতিনির্ধারকদের স্মৃতিচারণ থেকেও বর্তমান এই পদক্ষেপের বৈপরীত্য ফুটে উঠছে। মাত্র ৭০০ টাকা পরিশোধিত মূলধনে সাতজন সরকারি কর্মকর্তার ১০০ টাকার নামমাত্র শেয়ারে পুনর্গঠিত হওয়া সেই বিমান এখন কয়েক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক দায়ভার নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা থাকলেও, এই বিশাল আর্থিক দায়ভার শেষ পর্যন্ত বিমানের লাভজনকতা নাকি ঋণের বোঝা বাড়াবে—তা নিয়ে জোরালো পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।

