ডেস্ক রিপোর্ট | নাহিদ হাসান
জামালপুরে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনের মধ্যেই দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পাইকারদের কাছে মরিচ বেচতে হচ্ছে, আর বাজারে সেই মরিচই বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে।
অনুকূল আবহাওয়া ও বাড়তি আবাদি জমির কারণে এবার মাদারগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। জামালপুরে কাঁচা মরিচ চাষ ও পরিচর্যায় কেজিপ্রতি অন্তত ১২ টাকা খরচ হয়, তোলার শ্রমিক খরচ আরও ১০ টাকা। অর্থাৎ মোট খরচ পড়ে কেজিতে ২২ টাকা। অথচ ভরা মৌসুমে চাষিরা পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন ১৬ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে, ফলে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় খুচরা বাজারে একই মরিচের দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
সরিষাবাড়ীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপ সিনহা বলেন, এবার বন্যা না হওয়ায় নিচু এলাকার কৃষকেরা স্বাভাবিকের চেয়ে আগে চাষ শুরু করতে পেরেছেন। এতে সরবরাহ বেড়ে চাষির পর্যায়ে দাম কমে গেছে। গত বছর চার মাসের মৌসুমের শুরুতে মণপ্রতি দাম ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা, এক মাস পর তা নেমে আসে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়, পরে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ এবং মৌসুমের শেষে ৭০০ টাকায়।
তিনি বলেন, এবার সবকিছু ঘটেছে আরও আগে। মৌসুমের শুরুতে পাইকারিতে মণ বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকায়, কিন্তু এক মাসের মধ্যেই দাম নেমে এসেছে মাত্র ৬৪০ টাকায়। পচনশীল পণ্য হওয়ায় মরিচ মজুত রাখারও সুযোগ নেই, তাই লোকসান মেনেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।

