পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। কোথাও কোথাও দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলও পাওয়া যাচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের ভোজ্যতেল রিফাইনাররা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে বর্তমান মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রিফাইনারদের দাবি, বর্তমানে যে দামে বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে, তাতে তাঁদের লোকসান হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে দাম সমন্বয় করা না হলে তেল আমদানিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
আর আমদানি কমে গেলে রমজানে চাহিদা বাড়ার সময় বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
তবে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবটি এসেছে সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির মাত্র ২০ দিনের মধ্যে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সয়াবিন তেলের দাম পুনরায় সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বাজারে এখন থেকেই বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাওয়ায় সামনে সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
রমজান মাসে সাধারণত ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়ে। ফলে তার আগেই পর্যাপ্ত আমদানি ও সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বাজারে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন নজর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে। রিফাইনারদের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না এবং রমজানের আগে বাজারে পর্যাপ্ত সয়াবিন তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


