আলমারি তৈরির কাজ প্রায় শেষ। বাকি ছিল শুধু পাওনা পারিশ্রমিক। সেই টাকা চাইতে অভিনেতা ও সাবেক বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়ে এবার মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন এক কাঠমিস্ত্রি।
অভিযোগকারী রাজকাপুর শর্মা এ ঘটনায় বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। এতে সোহম চক্রবর্তীর পাশাপাশি তাঁর দেহরক্ষী তোতন সর্দারের নামও রয়েছে।
রাজকাপুর শর্মার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ মে সোহম চক্রবর্তীর বাড়িতে আলমারি তৈরির কাজ পান তিনি। এ কাজের জন্য মোট ৫৫ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছিল। শুরুতে তাঁকে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। এরপর আলমারি তৈরির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ করেন তিনি।
এর মধ্যে সোহমের বাড়িতে আরও দুটি আলমারি তৈরির দায়িত্ব পান রাজকাপুর। অভিযোগ, সেগুলোরও প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর আর পারিশ্রমিক না পাওয়ায় বকেয়া টাকা চাইতে সোহমের বাড়িতে যান ওই কাঠমিস্ত্রি।
রাজকাপুরের দাবি, পাওনা টাকা চাওয়ার পরই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। তাঁর অভিযোগ, সোহম চক্রবর্তী তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় অভিনেতার দেহরক্ষী তোতন সর্দারও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
শুধু মারধর নয়, অভিযোগপত্রে আরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন রাজকাপুর। তাঁর দাবি, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সোহম চক্রবর্তীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন ও মেসেজ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
সোহম চক্রবর্তীকে ঘিরে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে। গত জুলাইয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬৮ লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া বিধায়ক থাকাকালীন একটি রেস্তরাঁয় শুটিংকে কেন্দ্র করেও কর্মীদের সঙ্গে বচসা, হুমকি এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছিল সোহমের বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এবার কাঠমিস্ত্রি রাজকাপুর শর্মার করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।


