টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকা। নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রাম এবং কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের দিনও একই এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ না করে, তাহলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। তবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্রের আর সংযত থাকার সুযোগ থাকবে না। সে ক্ষেত্রে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এরই মধ্যে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই উত্তেজনা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।



