রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩, ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪ হাজার ৫১০ কোটি বা ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কংগ্রেসকে সর্বশেষ এই হিসাব জানিয়েছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ওই তথ্য অন্য সংবাদমাধ্যমেও এসেছে।

পেন্টাগনের হিসাবে, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলার যোগ করলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

তবে এই ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারকে ইরান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। কারণ, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ভবন মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সামরিক অভিযানের কিছু পরোক্ষ খরচের বিস্তারিত হিসাবও এখনো এতে নেই।

পেন্টাগনের দেওয়া ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুদ্ধের বড় একটি অংশের ব্যয় হয়েছে গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, ব্যবহৃত গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনের জন্য আনুমানিক ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের জন্য প্রায় ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে জ্বালানি, যুদ্ধকালীন ভাতা, উড়োজাহাজ পরিচালনা, চিকিৎসাসেবা ও যন্ত্রাংশের মতো খাত রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মোট ব্যয়ের হিসাবের পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে; বিশেষ করে অতিরিক্ত জ্বালানির ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার কীভাবে যোগ করা হয়েছে, সেটি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস বা সিবিও ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার বলে হিসাব দিয়েছিল। সংস্থাটি জানিয়েছিল, যুদ্ধের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে এরপর প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানেই যুদ্ধের আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ে পেন্টাগনের একটি পূর্ববর্তী হিসাবে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ হিসাব সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে।

তবে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবের মধ্যে পার্থক্যের একটি কারণ হলো কোন ধরনের খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সিবিওর হিসাবেও ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, কূটনৈতিক কার্যক্রম, বিদেশি সহায়তা কিংবা হতাহত সেনাসদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও অন্যান্য কিছু ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় যুদ্ধের সময় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ঘাঁটি ও ভবনের মেরামত বা পুনর্নির্মাণের ব্যয় যোগ হলে সামগ্রিক খরচ আরও বাড়তে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সর্বশেষ হিসাবে সেই সম্ভাব্য ব্যয় এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

ফলে বর্তমানে আলোচিত ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মূলত এখন পর্যন্ত হিসাব করা সামরিক ব্যয়ের একটি অংশ। যুদ্ধ চলতে থাকা, ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনা মেরামতের ব্যয় যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আর্থিক খরচ আরও বাড়তে পারে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version