ইয়েমেনে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানপন্থী হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের বাকি অঞ্চল পুনরুদ্ধারে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব–সমর্থিত ইয়েমেন সরকার।
রোববার এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল–আলিমি এই অভিযানের ঘোষণা দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো ইয়েমেনে রাষ্ট্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
রাশাদ আল–আলিমি বলেন, দেশের বাকি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের জন্য সামরিক অভিযান শুরু করা হচ্ছে। পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই হবে অভিযানের মূল লক্ষ্য।
এমন এক সময়ে ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা এল, যখন দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এরই মধ্যে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি শহর হুতি যোদ্ধারা ঘিরে ফেলেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। ফলে দেশটিতে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনে সরকারপন্থী বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত চলছে। এবার হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব এলাকা পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দেওয়ায় দেশটির সামরিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে।
তবে নতুন অভিযানের পরিধি কতটা হবে, কোন কোন এলাকায় প্রথম অভিযান পরিচালিত হবে কিংবা কতসংখ্যক সেনা এতে অংশ নেবে—এসব বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি দুই পক্ষের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। একদিকে সরকার হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে হুতিরাও নতুন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ফলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এখন নজর থাকবে, সরকারের ঘোষিত অভিযান বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হয় এবং এর জবাবে হুতিরা কী পদক্ষেপ নেয়।

