সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

সরকারি কর্ম কমিশন—পিএসসির চেয়ারম্যান পদ ছয় দিন ধরে শূন্য রয়েছে। গত ১৮ আগস্ট অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এখনো নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে চেয়ারম্যান না থাকলেও কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে পিএসসি।

বর্তমানে কমিশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য সুজায়েত উল্যা সাময়িকভাবে রুটিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। পিএসসির প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ সদস্য কমিশনের কার্যক্রম সচল রাখতে দায়িত্ব পালন করেন।

ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা সুজায়েত উল্যা জানিয়েছেন, পিএসসির অভ্যন্তরীণ কাজের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা।

তিনি জানিয়েছেন, ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল এক বছরের মধ্যে প্রকাশ করার লক্ষ্য নিয়ে পুরো কমিশন কাজ করছে। চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকার কারণে এই কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়নি বলেও জানান তিনি।

তবে চেয়ারম্যানের আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে পিএসসি ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই বছরের মাথায় তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত।

কারণ, পদত্যাগের মাত্র ছয় দিন আগে ১২ আগস্ট পিএসসি কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ৫০তম বিসিএসের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে ৫১তম বিসিএসের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।

শুধু তাই নয়, বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় দক্ষতাভিত্তিক বা ‘কম্পিটেন্সি বেজড’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার বিষয়েও তিনি আলোচনা করেছিলেন। অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ বিসিএসের কাঠামো ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তখনও তাঁর পরিকল্পনা সক্রিয় ছিল।

কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারের মাত্র ছয় দিনের মাথায় চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—কেন এত দ্রুত এই সিদ্ধান্ত?

পদত্যাগের পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা সরকারি চাপ ছিল কি না, এমন প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম নিজেই এমন কোনো চাপের বিষয় অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ নয়; শারীরিক অসুস্থতা এবং শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থেকেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পিএসসির নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকেই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার সঙ্গে লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত থাকায় কমিশনের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী কোনো শূন্যতা তৈরি হোক—এমনটা কেউই চান না।

বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের ভাইভা চলমান। এই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল এক বছরের মধ্যে শেষ করার যে লক্ষ্য পিএসসি জানিয়েছে, তা বাস্তবায়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সামনে রয়েছে ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনাও।

ফলে নতুন চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন, কবে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাঁর নেতৃত্বে পিএসসি কীভাবে এগিয়ে যাবে—এসব প্রশ্ন এখন চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকলেও আপাতত কমিশনের নিয়মিত কাজ থেমে নেই। জ্যেষ্ঠ সদস্যের নেতৃত্বে রুটিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পিএসসি। এখন অপেক্ষা শুধু নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version