সৌদি প্রো লিগের উত্থান শুধু বিশ্বতারকাদের দলে ভেড়ানোর গল্প নয়, ইউরোপের ক্লাবগুলোর জন্য এটি হয়ে উঠেছে বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের একটি বাজারও। সৌদি ক্লাবগুলোর কাছে খেলোয়াড় বিক্রি করে ইউরোপের কোন ক্লাব সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে—সেই হিসাবেও শীর্ষে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

সৌদি প্রো লিগে খেলোয়াড় বিক্রির ক্ষেত্রে সিটির সাম্প্রতিক সবচেয়ে আলোচিত চুক্তিগুলোর একটি তিজানি রেইন্ডার্সকে ঘিরে। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৬ কোটি ১০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে সৌদি ক্লাব আল কাদসিয়াহতে যোগ দিয়েছেন এই ডাচ মিডফিল্ডার।

রেইন্ডার্সের আগে সৌদি ক্লাবের কাছে আরও তিন খেলোয়াড় বিক্রি করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তাঁদের মধ্যে রিয়াদ মাহরেজকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, আইমেরিক লাপোর্তকে ২ কোটি ৮০ লাখ ইউরো এবং জোয়াও কানসেলোকে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে বিক্রি করা হয়েছে।

এই চারটি দলবদলের অর্থ যোগ করলে সৌদি প্রো লিগে খেলোয়াড় বিক্রি করে সিটির মোট আয় দাঁড়ায় ১৩ কোটি ১০ লাখ ইউরো। ফলে সৌদি ক্লাবগুলোর কাছে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্লাবের তালিকায় শীর্ষস্থানটি ম্যানচেস্টার সিটির।

এখানে সিটির সাফল্যের বিষয়টি শুধু একটি বা দুটি বড় দলবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপের অন্যতম ধনী ও সফল ক্লাব হিসেবে খেলোয়াড় কেনার পাশাপাশি বিক্রির ক্ষেত্রেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করে আসছে। সৌদি ফুটবলের বিপুল আর্থিক সক্ষমতা সেই বাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। সৌদি ক্লাবগুলোর কাছে জন দুরান ও মুসা দিয়াবিকে বিক্রি করে ভিলা মোট ১৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো আয় করেছে। জন দুরানের দলবদল থেকেই এসেছে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ইউরো। আর মুসা দিয়াবিকে বিক্রি করে পেয়েছে ৬ কোটি ইউরো।

অর্থাৎ, মোট আয়ের হিসাবে অ্যাস্টন ভিলা ম্যানচেস্টার সিটির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। দুটি ক্লাবের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৬০ লাখ ইউরো।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল। সৌদি প্রো লিগে তিনজন খেলোয়াড় বিক্রি করে তারা মোট ১১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো আয় করেছে। এরপরই রয়েছে পর্তুগালের পোর্তো। চারটি চুক্তির মাধ্যমে সৌদি ক্লাবগুলোর কাছ থেকে পোর্তোর আয় ১১ কোটি ইউরো।

তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই—পিএসজি। সৌদি প্রো লিগে খেলোয়াড় বিক্রি করে ফরাসি ক্লাবটির আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ ইউরো।

ইংলিশ ক্লাব চেলসিও রয়েছে তালিকার ওপরের দিকে। খেলোয়াড় কেনাবেচার বাজারে নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় ও আয় করা এই ক্লাবটি সৌদি ক্লাবগুলোর কাছে চারজন ফুটবলার বিক্রি করে পেয়েছে ১০ কোটি ইউরো। তালিকায় তাদের অবস্থান ষষ্ঠ।

এরপর রয়েছে ইতালির আতালান্তা। সৌদি প্রো লিগে খেলোয়াড় বিক্রি করে তারাও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে। তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেড। ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যাওয়া উলভস রয়েছে দশম অবস্থানে।

শীর্ষ দশে জায়গা করে নেওয়া আরেকটি উল্লেখযোগ্য ক্লাব হলো রাশিয়ার জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। শীর্ষ পাঁচ ইউরোপীয় লিগের বাইরে থাকা একমাত্র ক্লাব হিসেবে তারা এই তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে।

পুরো হিসাবটি দেখলে সৌদি প্রো লিগের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক শক্তির একটি চিত্রও পাওয়া যায়। কয়েক বছর আগেও ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো থেকে খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে সৌদি ক্লাবগুলোর নাম খুব বেশি শোনা যেত না। কিন্তু বড় বিনিয়োগের ফলে এখন সৌদি আরবের ক্লাবগুলো শুধু বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের দলে টানছে না, ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর জন্য খেলোয়াড় বিক্রির বড় বাজারও তৈরি করেছে।

ম্যানচেস্টার সিটির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট। রিয়াদ মাহরেজ, লাপোর্ত, কানসেলো ও রেইন্ডার্স—চারজন খেলোয়াড়ের দলবদল থেকে পাওয়া অর্থ দেখাচ্ছে, সৌদি বাজারকে তারা কীভাবে কাজে লাগিয়েছে।

তবে এই তালিকার সবচেয়ে বড় চমক হলো অ্যাস্টন ভিলার অবস্থান। মাত্র দুটি বড় দলবদল থেকেই তাদের আয় ১৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো, যা ম্যানচেস্টার সিটির মোট আয়ের চেয়েও বেশি। ফলে সৌদি প্রো লিগের সঙ্গে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর আর্থিক সম্পর্ক যে কেবল তারকা ফুটবলার কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এই হিসাব সেটিই সামনে আনছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version