লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মজিব উদ্দিন সেলিম নামে ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের আলাউদ্দিনগর ইসলাম নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে মজিব উদ্দিন সেলিম মোবাইল ফোন দেখানোর কথা বলে শিশুটিকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।
অভিযুক্ত মজিব উদ্দিন সেলিম একই এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি মমিনপুর দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভুক্তভোগী শিশুটির সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে এবং তিনি শিশুটির দাদা হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়। শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পাটগ্রাম থানা-পুলিশ।
পুলিশের অভিযান শুরু হলে মজিব উদ্দিন আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে। এরপর তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয় পুলিশ। একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশের একটি দল।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাতীবান্ধা উপজেলা থেকে মজিব উদ্দিন সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় শিশুটির শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন ঘটনা আবারও পরিবার ও সমাজের দায়িত্বের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে পরিচিত বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কোনো শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, অসুস্থতা বা অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি।
তবে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পাটগ্রামের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি ছয় বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে এমন অভিযোগের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।


