দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। নতুন করে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতিবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় আরও ৯৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে হামের সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ জনে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৯৪ জনসহ গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৩১২।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৮৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ শিশু।
সব মিলিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৩। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।
তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু না হলেও উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু এবং নতুন করে এক হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। একই সময়ে আরও ৯৪ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনের হিসাবে, ১৫ মার্চের পর থেকে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন—দুই ধরনের সংক্রমণেই আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে এক লাখ ৩৮ হাজার ছাড়িয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ৩১২ এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৮৭৪। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ শিশুর। ফলে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে চলতি বছরে মোট ৯৭৩ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।



