ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দুই লেনের সেতু দুটির মোট দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। নতুন এই সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন টোল ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়া বাজার ও ধউর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ফিতা কেটে উদ্বোধনের পরপরই সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সার্ভিস সেতু দুটি চালু হওয়ার ফলে ধউর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত স্থানীয় যানবাহনের চলাচল আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে এই পথে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাতায়াতের সময়ও কমবে।
ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি চালু হলে এর সুফল আরও বড় পরিসরে পাওয়া যাবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রায় ৩০ জেলার চার কোটির বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
এক্সপ্রেসওয়েটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল হয়ে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ডিইপিজেড পর্যন্ত যোগাযোগ সহজ করার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে।
পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী থেকে আশুলিয়া ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে যাতায়াতের সময় কমবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখের যানজট কমাতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অংশে মোট ২৪ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ১০ দশমিক ৮৩৪ কিলোমিটার র্যাম্প এবং ১৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার অ্যাট-গ্রেড সড়ক।
এ ছাড়া বাইপাইল এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৪ দশমিক ০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ। পুরো অবকাঠামো চালু হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর সংযোগ আরও সহজ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৬৬ শতাংশ। একই সময় পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, একসময় প্রকল্পটির কাজ স্থবির হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গত সাড়ে তিন বছরে প্রকল্পটির প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের আরও একটি অংশের নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী এক বছরের মধ্যে ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই দুটি সার্ভিস সেতু খুলে দেওয়ায় আপাতত ধউর-আশুলিয়া অংশে চলাচলকারীরা এর সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে স্থানীয় যানবাহনের জন্য টোল ছাড়াই সেতু দুটি ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে।
ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দর, আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল ও ডিইপিজেডের মধ্যে যোগাযোগ দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর পণ্য ও যাত্রী পরিবহনেও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



