জুনিয়র এশিয়া কাপে জয়ের দেখা পাচ্ছে না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ হকি দল। প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে ৩-২ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। এবার মালয়েশিয়ার কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে সমতায় ফিরলেও শেষ কোয়ার্টারে জোড়া গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দলটি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের পরাজয় পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের শুরুটাও হয়েছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণভাবে। প্রথম কোয়ার্টারে দুই দলই আক্রমণের চেষ্টা করলেও কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথম কোয়ার্টার।
তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের চিত্র দ্রুত বদলে যায়। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের ২১ থেকে ২৩ মিনিটের মধ্যে দুইবার বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে গোল আদায় করে নেয় মালয়েশিয়া। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশের যুবারা।
দুই গোল হজম করলেও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। ২৪ মিনিটেই একটি গোল শোধ করে দলকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান আবদুল্লাহ। তাঁর গোলে ব্যবধান ২-১ হওয়ায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও বাড়তে থাকে।
এরপর তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। সেই প্রচেষ্টার ফলও আসে। মেহেদী হাসানের ফিল্ড গোলে ২-২ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারে আবারও বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নেয় মালয়েশিয়া। আর বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার আশা শেষ করে দেন মালয়েশিয়ার সুজাইনি ফাহমি।
ম্যাচের ৪৮ মিনিটে গোল করে মালয়েশিয়াকে আবারও এগিয়ে দেন ফাহমি। এর মাত্র তিন মিনিট পর, ৫১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তাঁর দ্রুত দুই গোলে মালয়েশিয়া ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
শেষ দিকে বাংলাদেশ ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি। ফলে ৪-২ ব্যবধানের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে।
এ নিয়ে এবারের জুনিয়র এশিয়া কাপে টানা দুই ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেও লড়াই করেছিল যুবারা। সেই ম্যাচে চীনের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল তারা। এবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষেও বাংলাদেশের গোলসংখ্যা দুটি, তবে প্রতিপক্ষের চার গোলের জবাব দিতে পারেনি দল।
দুই ম্যাচের ফলাফলে বাংলাদেশের জন্য এখন পরবর্তী ম্যাচটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী মঙ্গলবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কাজাখস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। টানা দুই পরাজয়ের পর সেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের দেখা পাওয়াই হবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
এবারের আসরে ‘বি’ গ্রুপে খেলছে বাংলাদেশ। একই গ্রুপে রয়েছে পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তান। ফলে গ্রুপে বাংলাদেশের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেশ কঠিন। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত খেলছে ‘এ’ গ্রুপে। মোট ১০টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ছেলেদের জুনিয়র এশিয়া কাপ।
জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। এবারের আসর নিয়ে নবমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় খেলছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছে ১৯৯৬ সালে। সেবার সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশের যুবারা।
তবে এবারের আসরের শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। চীনের বিপক্ষে এক গোলের ব্যবধানে হারের পর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে পরাজয় এসেছে। বিশেষ করে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ২-২ সমতায় ফেরার পর শেষ কোয়ার্টারে জোড়া গোল হজম করা বাংলাদেশের জন্য হতাশার।
এখন বাংলাদেশের সামনে কাজাখস্তান ম্যাচ। প্রথম দুই ম্যাচের ভুলগুলো কাটিয়ে মঙ্গলবারের ম্যাচে বাংলাদেশের যুবারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



