মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩, ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

অতিরিক্ত শব্দ শুধু বিরক্তির কারণ নয়, দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার শব্দের মধ্যে থাকলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শ্রবণশক্তি। কারখানার যন্ত্রপাতি, নির্মাণকাজ, উচ্চ শব্দের মাইক, গাড়ির হর্ন কিংবা ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইস—নিয়মিত এমন শব্দের সংস্পর্শে থাকলে কানের শ্রবণকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একে বলা হয় শব্দ-প্ররোচিত শ্রবণশক্তি হ্রাস।

উচ্চমাত্রার শব্দের অন্যতম ঝুঁকি হলো, অনেক সময় ক্ষতিটা সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে শব্দের সংস্পর্শে থাকার পর ধীরে ধীরে শোনার ক্ষমতা কমতে শুরু করতে পারে।

অতিরিক্ত শব্দের উৎস হতে পারে কারখানার ভারী যন্ত্রপাতি, ভবন নির্মাণের সরঞ্জাম কিংবা উচ্চ শব্দ তৈরি করে এমন বিভিন্ন পেশাগত কাজ। পাশাপাশি মাইক, ডিস্কো, শুটিং, ব্যক্তিগত স্টেরিও এবং গাড়ির হর্নের মতো বিনোদনমূলক ও দৈনন্দিন উৎস থেকেও মাত্রাতিরিক্ত শব্দ কানের ক্ষতি করতে পারে।

যেভাবে কানের ক্ষতি হয়

৯০ ডেসিবলের বেশি মাত্রার শব্দ কানের ভেতরের কক্লিয়ায় পরিবর্তন ঘটাতে পারে। প্রথম দিকে কক্লিয়ার বিপাকীয় ক্লান্তি দেখা দেয়। এরপর বারবার এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে কানের বাইরের হেয়ার কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

এই হেয়ার কোষগুলো শ্রবণপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্রমাগত ক্ষতির ফলে প্রথম সারি থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একপর্যায়ে এর প্রভাব পড়ে মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতার ওপর।

কোন লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকার পর সাময়িকভাবে কানে ঝিঁঝি বা শোঁ শোঁ শব্দ হতে পারে, যাকে টিনিটাস বলা হয়। কখনো সাময়িকভাবে কম শোনার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তবে স্থায়ী ক্ষতির ক্ষেত্রে শুরুতে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য মানুষের কথা পরিষ্কারভাবে বুঝতে সমস্যা হতে পারে। বাইরে থেকে পরীক্ষা করলে কানের পর্দা স্বাভাবিক দেখা গেলেও শ্রবণ পরীক্ষায় বধিরতার মাত্রা শনাক্ত হতে পারে।

শ্রবণশক্তি রক্ষায় করণীয়

উচ্চ শব্দ হয় এমন এলাকা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। পেশাগত কারণে অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশে কাজ করতে হলে ইয়ার প্লাগসহ উপযুক্ত শ্রবণ সুরক্ষা ব্যবহার করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় গাড়ির হর্ন ও উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। ব্যক্তিগতভাবে হেডফোন বা অন্য কোনো অডিও ডিভাইস ব্যবহারের সময়ও শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কানে নিয়মিত ঝিঁঝি শব্দ, কথা বুঝতে অসুবিধা কিংবা শ্রবণক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কারণ দীর্ঘদিন অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকার ফলে শ্রবণকোষের ক্ষতি ধীরে ধীরে স্থায়ী বধিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version