দেশের রেল যোগাযোগে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো তেলের পরিবর্তে বিদ্যুতে চলবে ট্রেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে এই ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে ট্রেনের গতি প্রায় ২০ শতাংশ বাড়বে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে এই রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করা হবে।
প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পসহ মোট ১৬টি প্রকল্প একনেকের টেবিলে উঠছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ থেকেই আসবে প্রায় ৪০ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা।
একনেকে উপস্থাপিত বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল-৫-এর দক্ষিণ রুট। শুধু এই প্রকল্পেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
এ ছাড়া দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন ও উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ১৭ হাজার ৭০০ রোগীসহ যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া রোগীদের চিকিৎসায় নেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প।
রেল খাতেও আরও বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এবারের একনেকে উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের বড় অংশই ঋণনির্ভর। মোট ৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশিই আসার কথা প্রকল্প ঋণ থেকে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে দেশের প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেলনির্ভর প্রচলিত ট্রেনের পাশাপাশি বাংলাদেশের রেলব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎচালিত ট্রেন যুক্ত হবে।


