নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজী বাড়ির মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। স্থানীয় জামায়াত নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অতীতে শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতিসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় নন।
মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাথাব্যথার কারণে সে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, আলমগীর ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁকও করতেন। শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁক করলে ভালো হয়ে যাবে—এমন কথা বলে আলমগীর শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরে শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থতা ও ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তার কাছে বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে সে পরিবারের কাছে ঘটনার কথা জানায়।
এরপর শিশুটির বাবা বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পশ্চিম খানপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে আলমগীরের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানিয়েছেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত আলমগীর তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে মোজাম্মেল হোসেনের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর দাবি করেছেন, ঝাড়ফুঁকের কাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল এবং সেই বিরোধের জেরে একটি চক্র তাঁর কাছে টাকা দাবি করেছিল। টাকা না পাওয়ার পর শিশুটিকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলানো এবং পরিবারকে মামলা করতে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে আলমগীর দাবি করেছেন। এটি অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি; অভিযোগটির সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, শিশুটির বাবার করা মামলায় আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি হয়েছে। ফলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ এখনো বিচারাধীন বিষয়; তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।


