বিকেলে বাসার নিচের দোকানে গিয়েছিল সাড়ে তিন বছরের এক শিশু। সঙ্গে ছিলেন বাসার সহকারী, যিনি নিয়মিত শিশুটির দেখাশোনা করেন। কেনাকাটার সময় মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য শিশুটির দিকে নজর ছিল না তাঁর। হঠাৎ খেয়াল করতেই দেখেন, পাশে শিশুটি নেই। আশপাশে তাকিয়ে কিছুটা দূরে এক নারীকে শিশুটির হাত ধরে দ্রুত হেঁটে যেতে দেখেন তিনি।
ঘটনাটি গত ৩ সেপ্টেম্বরের। শিশুটির মা জানিয়েছেন, বাসার নিচের মুদিদোকান থেকে কিছু জিনিস কিনতে তিনি তাঁর সহকারীকে পাঠিয়েছিলেন। মেয়ে সঙ্গে যাওয়ার বায়না ধরলে তাকেও যেতে দেন। উদ্দেশ্য ছিল পরিচিত সহকারীর সঙ্গে গিয়ে হয়তো চিপস বা চকলেট কেনা।
কিন্তু ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বাসায় ফিরে সহকারী যে ঘটনা জানান, তা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিশুটির মা।
সহকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, দোকান থেকে কেনা জিনিসপত্র বুঝে নেওয়ার সময় শিশুটিকে নিজের পাশেই রেখেছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ খেয়াল করেন, শিশুটি সেখানে নেই। আশপাশে খুঁজতে গিয়ে দেখেন, গলির মাথার দিকে এক নারী শিশুটির হাত ধরে দ্রুত চলে যাচ্ছেন।
তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওই নারীর দিকে দৌড়ে যান এবং শিশুটিকে কেন নিয়ে যাচ্ছেন জানতে চান। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী পাল্টা জানতে চান, শিশুটি তাঁর কি না। এরপর আর সময় নষ্ট না করে সহকারী শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন।
ঘটনার কথা শোনার পর শিশুটির মা সহকারীকে নিয়ে আবার নিচে নেমে ওই নারীকে খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু ততক্ষণে তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট রাস্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করারও কোনো তাৎক্ষণিক উপায় ছিল না বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা।
ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো বিপদ ছাড়াই শেষ হলেও কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা একটি পরিবারকে কত বড় ঝুঁকির সামনে দাঁড় করাতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে শিশুটির মাকে। তাঁর ভাষায়, সহকারীর আরও কিছুটা দেরিতে বিষয়টি নজরে এলে কী ঘটতে পারত, সেটি তিনি ভাবতেও পারছেন না।
এই অভিজ্ঞতার পর ছোট শিশুকে বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কোনো শিশু হঠাৎ নিখোঁজ হলে প্রথম মুহূর্তে কী করা উচিত, সে বিষয়েও খোঁজখবর নিতে শুরু করেন।
শিশু হারিয়ে গেলে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই শিশুটিকে শেষ কোথায় এবং কখন দেখা হয়েছিল, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আশপাশের দোকান, ভবন, গলি, পার্কিং এলাকা ও সম্ভাব্য জায়গাগুলো দ্রুত খুঁজতে হবে। একই সঙ্গে কাছাকাছি থাকা মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীদের জানালে অনুসন্ধানের পরিধি বাড়ানো যায়।
শিশুকে পাওয়া না গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো জরুরি। শিশুর সাম্প্রতিক ছবি, বয়স, উচ্চতা, পরনের পোশাক, বিশেষ কোনো শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং শেষ কোথায় দেখা গেছে—এসব তথ্য প্রস্তুত রাখলে অনুসন্ধানে সহায়তা হতে পারে। আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট ফুটেজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই শিশুকে নিজের ও বাবা-মায়ের নাম, সম্ভব হলে যোগাযোগের নম্বর এবং বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইতে হবে—এসব বয়স উপযোগীভাবে শেখানো যেতে পারে। অপরিচিত কেউ কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে পরিচিত অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সঙ্গে না যাওয়ার বিষয়টিও শিশুকে বোঝানো প্রয়োজন।
তবে এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে কোনো ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়াই অপহরণকারী হিসেবে চিহ্নিত বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় প্রকাশ করা ঠিক নয়। সন্দেহজনক আচরণ দেখলে যত দ্রুত সম্ভব পুলিশকে জানানো এবং প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজের মতো প্রমাণ সংরক্ষণ করাই নিরাপদ পথ।
৩ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় নারীটির উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানা যায়নি। তবে শিশুটির মায়ের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়—ভিড়ের মধ্যে হোক কিংবা বাসার পাশের পরিচিত দোকান, ছোট শিশুকে চোখের আড়াল না রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।


