মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মো. নাঈম হোসেন (১৫) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বুলু নেতার সমাজ এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাঈমের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নিহত নাঈম চরজুবিলী ইউনিয়নের বাসিন্দা খলিল উল্যাহর ছেলে এবং একই এলাকার এবাইদুল্লাহর নাতি। সে কাঞ্চন বাজারসংলগ্ন একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের বাবা খলিল উল্যাহ ও মা ফাতেহা আক্তার সুমির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছিল।

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে কেউ একজন নাঈমকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি।

রাতে নাঈমের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। মঙ্গলবার সকালে স্বজনরা আশপাশের এলাকায় তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেতে নাঈমকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরে বিষয়টি চরজব্বার থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নাঈমের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এরপর গলায় আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে পরিবারের এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ।

স্বজনরা নাঈমের মৃত্যুর সঙ্গে কারা জড়িত, তা দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তাঁদের।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে নাঈমকে কে বা কারা রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়েছিল, তার মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য সামনে আসেনি। ফলে ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নাঈমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version