আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসা দুটি চিতাবাঘ দীর্ঘ নয় বছর ধরে গাজীপুর সাফারি পার্কে রয়েছে। চিতাবাঘ দুটিকে নিজ দেশে নিয়ে পুনর্বাসনে আগ্রহ দেখিয়েছে জিম্বাবুয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী বন্য প্রাণী সংগঠন। তবে এ জন্য দেশটির সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। বন অধিদপ্তর দুই বছর ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত চিতাবাঘ দুটি ফেরত নিতে সম্মতি দেয়নি জিম্বাবুয়ে সরকার।
চিতাবাঘ দুটির বাংলাদেশে আসার ঘটনা ২০১৮ সালের। ওই বছরের ১৫ জুন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে খাঁচাবন্দী অবস্থায় দুটি চিতাশাবক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই রাখা হয়েছে প্রাণী দুটিকে।
দুটি চিতাবাঘ উদ্ধারের ঘটনায় পাচারকারীকে আটক করা হয়েছিল। পরে আটক পাচারকারী এবং আন্তর্জাতিকভাবে বন্য প্রাণী পাচার প্রতিরোধে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন বিভাগ জানতে পারে, শাবক দুটির উৎস জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে পাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল তাদের।
উদ্ধারের পর চিতাবাঘ দুটিকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে বদ্ধ প্রকোষ্ঠেই রয়েছে তারা। প্রায় নয় বছর ধরে সাফারি পার্কের বদ্ধ পরিবেশে থাকা প্রাণী দুটির পুনর্বাসন নিয়ে তাই নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসে জিম্বাবুয়ের বন্য প্রাণী পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’। সংগঠনটি বাংলাদেশে থাকা দুটি চিতাবাঘকে জিম্বাবুয়েতে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের আগ্রহ প্রকাশ করে।
তবে একটি দেশ থেকে আরেক দেশে বন্য প্রাণী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শুধু কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আগ্রহই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে চিতাবাঘ দুটি জিম্বাবুয়েতে ফিরিয়ে নিতে দেশটির সরকারের সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জিম্বাবুয়ের সংগঠনটির আগ্রহের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের বন বিভাগ দেশটির ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠানো হয়।
ওই চিঠিতে চিতাবাঘ দুটির বিষয় তুলে ধরে তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এরপরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি।
বন অধিদপ্তর গত দুই বছর ধরে চিতাবাঘ দুটি জিম্বাবুয়েতে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছে। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রাণী দুটি ফেরত নেওয়ার সম্মতি মেলেনি।
ফলে জিম্বাবুয়ের একটি বন্য প্রাণী সংগঠন চিতাবাঘ দুটিকে পুনর্বাসনে আগ্রহী হলেও সরকারি অনুমোদনের অভাবে উদ্যোগটি এগোতে পারছে না।
২০১৮ সালে যখন প্রাণী দুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তখন তারা ছিল শাবক। এরপর দীর্ঘ নয় বছর কেটে গেছে গাজীপুর সাফারি পার্কে। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
এখন চিতাবাঘ দুটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মূলত জিম্বাবুয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। দেশটির সরকার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিলে ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’-এর উদ্যোগে তাদের জিম্বাবুয়েতে নিয়ে পুনর্বাসনের পথ তৈরি হতে পারে। তবে সেই অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত গাজীপুর সাফারি পার্কেই থাকতে হচ্ছে পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসা দুই চিতাবাঘকে।