‘ভিপি নুরের নির্দেশ, ৫ লাখ টাকার কম হবে না’—এমন কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফারুক হোসেনকে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ড ঘিরে। অডিওটি ফারুক হোসেনের বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির সঙ্গে পাসপোর্ট, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি-সংক্রান্ত কাজ নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়। এসব কাজের প্রাথমিক খরচ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা চাওয়ার কথাও অডিওতে রয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রেকর্ডটি সম্পাদনা করা হয়েছে কি না কিংবা এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।
যুব অধিকার পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে তাঁকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিজের নাম ব্যবহার করে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তাঁর কণ্ঠ সম্পাদনা করে আলোচিত অডিওটি তৈরি করেছে।
ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর এলাকার সাকিব নামের এক ব্যক্তি পাসপোর্ট করে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি পাঁচ হাজার টাকা খরচের কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি, সেই ‘পাঁচ হাজার’ টাকার কথাকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘পাঁচ লাখ’ বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাকিব নামের ওই ব্যক্তির বক্তব্যও একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর কাছে পাঁচ হাজার টাকার কথা বলা হয়েছিল, পাঁচ লাখ টাকা চাওয়ার কোনো বিষয় ছিল না।
ফলে ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে দুই ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে। একদিকে অডিওতে পাঁচ লাখ টাকা দাবি এবং নুরুল হক নুরের নির্দেশের কথা শোনা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অন্যদিকে ফারুক হোসেন দাবি করছেন অডিওটি এআই প্রযুক্তিতে সম্পাদিত। অডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষার কোনো ফল এখনো সামনে আসেনি। তবে অভিযোগ সামনে আসার পরই তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে যুব অধিকার পরিষদ।

