বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠিত ছায়া মন্ত্রিসভার নেতৃত্বে থাকছেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁকে ছায়া প্রধানমন্ত্রী বা ছায়া মন্ত্রিসভার প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
গত মাসে এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিগগিরই ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এরই মধ্যে দায়িত্ব পাওয়া সদস্যদের প্রশিক্ষণও চলছে।
সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়ে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে এবং খুব শিগগিরই তাঁদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনা হবে।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রাখা হয়েছে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাইফুল আলম খান মিলনকে।
এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মুজিবুর রহমান। তথ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনকে।
আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ শিশির মনির। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন ইলিয়াস মোল্লা। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাফেজ রাশেদুল ইসলামকে। আর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আইয়ুবী।
জামায়াতের এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পেছনে একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এর অন্যতম হলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমে ভুল, দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তার বিকল্প হিসেবে নীতিপ্রস্তাব তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও এই কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, নীতি বা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট ছায়া মন্ত্রী সেই বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে সংসদে বিকল্প বক্তব্য বা নীতিগত প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।
শুধু বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ নয়, ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিও ছায়া মন্ত্রিসভার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখছে জামায়াত। সম্ভাব্য মন্ত্রী ও নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, নীতি ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত একটি রাজনৈতিক দলের বিকল্প সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি ও সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের কাঠামো হিসেবে কাজ করে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম অনুসরণ করেন এবং প্রয়োজন হলে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাবও তুলে ধরেন।
জামায়াতের ক্ষেত্রে এই কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় এবং সংসদীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর দলটি কীভাবে সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতিপ্রস্তাব সামনে আনে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গনের।
এখন পর্যন্ত দলীয় সূত্রে যেসব নাম ও দায়িত্বের কথা জানা গেছে, সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।



