বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে ঢাকা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা তাঁর নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনার পাশাপাশি ঢাকা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁকে নিয়ে গর্বের কথাও জানান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি মীর সরফত আলী সপু ও সদস্য কামরুজ্জামান রতন এমপি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজে তাঁর ছাত্র ও শিক্ষকজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। দেশের শিক্ষা, রাজনীতি ও বিভিন্ন পেশায় ঢাকা কলেজের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় ঢাকা কলেজ দেশের সর্বোৎকৃষ্ট বিদ্যাপীঠগুলোর একটি ছিল। দেশের রাজনীতি ও নেতৃত্বের পাশাপাশি লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, প্রশাসকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোকিত মানুষ তৈরিতে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিশাল অবদান রয়েছে।
ঢাকা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হওয়ায় আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।
সংগঠনটির প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুসংহত করা, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং দেশের সমৃদ্ধির পথ আরও এগিয়ে নিতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলেও প্রত্যাশা করেন তাঁরা।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য শুভকামনা জানায় ঢাকা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।
সাক্ষাতে ঢাকা কলেজের বর্তমান অবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি ঢাকা কলেজের অতীতের গৌরবময় ঐতিহ্য ও শিক্ষার উৎকর্ষ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ জন্য কলেজের বর্তমান ছাত্র-শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব তৈরিতে ঢাকা কলেজ অতীতে যে ভূমিকা রেখেছে, সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতিকে ঢাকা কলেজের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা কলেজের ১৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।
আমন্ত্রণের জবাবে রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা কলেজের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্পর্ক শুধু প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবেই নয়, শিক্ষক হিসেবেও। ফলে তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের জন্য বিশেষ গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থীরা।
সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিবসহ বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এই সাক্ষাতে একদিকে তাঁর নতুন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের জন্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়, অন্যদিকে উঠে আসে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা। রাষ্ট্রপতিও সেই লক্ষ্য অর্জনে কলেজের ছাত্র, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।



