সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩, ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজির লেবার সরকার। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ, ‘ভিসা হপিং’ বন্ধ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা—এসব পরিবর্তনের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নতুন নীতির রূপরেখা প্রকাশ করেন।

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা। সাধারণভাবে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীরা তাঁদের ভিসার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করতে পারবেন না। তবে পিএইচডিসহ নির্দিষ্ট কিছু কোর্স এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আসিয়ানভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে। ইতিমধ্যে যাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, নতুন নিয়মের কারণে তাঁদের পরিবারকে আলাদা করা হবে না।

আরেকটি বড় পরিবর্তন আসছে তথাকথিত ‘ভিসা হপিং’ বন্ধে। এত দিন কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী একটি কোর্স শেষ করার পর অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় বাড়াতে একের পর এক নতুন কোর্সে ভর্তি হতেন। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কোর্সটি আগের যোগ্যতার তুলনায় উচ্চতর পর্যায়ের হতে হবে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে বারবার নিম্নস্তরের কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে।

তবে অসুস্থতা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বৈধ কারণে পড়াশোনা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিদ্যমান সুযোগ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন টনি বার্ক। সরকারের ভাষ্য, উদ্দেশ্য প্রকৃত শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়া নয়; বরং শিক্ষার্থী ভিসাকে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের বিকল্প পথে পরিণত করার প্রবণতা ঠেকানো।

পর্যটক বা ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আসছে। ভবিষ্যতের ভিজিটর ভিসায় সাধারণভাবে ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন বার্ক। এর ফলে ভিজিটর হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকে দেশটির ভেতরে থেকেই অন্য ধরনের ভিসার আবেদন করে ব্রিজিং ভিসায় দীর্ঘ সময় অবস্থানের সুযোগ সীমিত হবে। তবে সুরক্ষা বা প্রোটেকশন ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা একইভাবে প্রযোজ্য হবে না।

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন—এমন মানুষের বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি হিসাবে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৭ হাজার। তাঁদের শনাক্ত ও অপসারণের সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত ১০০ জন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং ২৫০টি ডিটেনশন বেড যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। মেলবোর্নের সাবেক কোয়ারেন্টিন স্থাপনাকে এ কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

টনি বার্ক অবশ্য নতুন ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের মতো অভিযান হিসেবে দেখতে চান না। তাঁর বক্তব্য, অস্ট্রেলিয়ায় ২০১৫ সালের আগে ভিসার মেয়াদ অতিক্রমকারীদের ক্ষেত্রে যে নিয়মিত ব্যবস্থা ছিল, মূলত সেই ধরনের প্রয়োগব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে এই পরিবর্তন এমন সময়ে আসছে, যখন দেশটিতে আবাসনসংকট, বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। তবে আবাসনসংকটের জন্য অভিবাসন একমাত্র কারণ—এমন অবস্থান সরকার নেয়নি; জনসংখ্যা, আবাসন সরবরাহ ও পরিবারের গড় আকারসহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন বা নিট বিদেশি অভিবাসন আরও কমিয়ে আনা। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার। সরকারের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে তা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। টনি বার্কের দাবি, নতুন পরিবর্তনগুলো অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী কোন ধরনের দক্ষ কর্মী দেশে আসবেন, সেটিও আরও ভালোভাবে নির্ধারণে সহায়তা করবে।

তবে নতুন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে। বিরোধী জোট আরও কম অভিবাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে গ্রিনস সরকারের কড়াকড়ির সমালোচনা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরাও সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ মেধাবী বিদেশি শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নতুন নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে—কে অস্থায়ীভাবে দেশটিতে আসছেন, কে বৈধভাবে দীর্ঘমেয়াদে থাকছেন এবং কার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশত্যাগ করা প্রয়োজন—এই তিন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা বা অস্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা বিদেশিদের জন্য ভিসার ধরন, পরিবারের সদস্য নেওয়ার যোগ্যতা এবং পরবর্তী ভিসায় যাওয়ার নিয়ম আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version