যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই কানাডাকে নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য এবং দেশটির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো आগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম প্রদেশ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে সম্বোধন করার মতো বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি করেছিল। জাস্টিন ট্রুডো ক্ষমতা ছাড়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব নিলেও ট্রাম্পের এই মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
শুল্ক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক প্রভাব: ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বে মার্কিন পণ্য ও ভ্রমণ বয়কটের ঘোষণা দেন। কানাডীয় পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় মার্কিন সীমান্ত এলাকার পর্যটন শিল্প, হোটেল-মোটেল এবং খুচরা ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এর পাশাপাশি মার্কিন অ্যালকোহল ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য আমদানি বন্ধ করে দেয় কানাডা।
কানাডার পক্ষ থেকেও অত্যন্ত সুকৌশলী ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের যে রাজ্যগুলোয় রিপাবলিকান ভোটারদের প্রাধান্য রয়েছে কিংবা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়, সেগুলোকে টার্গেট করে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে ওটোয়া। এর ফলে মার্কিন কৃষি সমাজ, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর উৎপাদক এবং সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। মিশিগানসহ সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা টানতে হয়, যা মার্কিন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
নির্বাচনী ফলাফল ও শিক্ষণীয় দিক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির এই ভরাডুবির পেছনে ট্রাম্পের ভুল কানাডা-নীতি ও বাণিজ্যযুদ্ধ অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। কানাডা সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলো এবং যেসব এলাকায় শুল্কনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, সেখানে ভোটাররা ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। নির্বাচনের ঠিক আগে মার্কিন প্রশাসন শুল্কছাড় দিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় অর্থনীতির চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য নীতির বিরুদ্ধে ছোট অর্থনীতি কীভাবে সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত পাল্টা আঘাত হানতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।



