রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নিয়েও এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই তালিকা কমিশনের হাতে পৌঁছায়নি। ভোটার তালিকা পাওয়ার পর কমিশন তফসিল নির্ধারণ করবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সেই সাংবিধানিক সময়সীমা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকও হয়েছে। তবে নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ধাপ এখনো শুরু হয়নি।
ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। সংসদ সচিবালয় থেকে হালনাগাদ তালিকা পাওয়ার পর কমিশন তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং ভোটগ্রহণসহ পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময়সূচি চূড়ান্ত করবে। তাই ভোটার তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও এখনো পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। নির্বাচন কমিশন এর আগে ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ রেখেছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না আসায় ওই সময়সীমা পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশন প্রয়োজন হলে নতুন সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ দিনের সময় লাগে। এর আগে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, মুদ্রণ, নির্বাচনসামগ্রী প্রস্তুত, কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ শেষ করতেও আরও প্রায় দেড় মাস সময় প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। তাই সরকারের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া সম্ভাব্য সময় নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার বিষয়েও সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে হয়। তবে চলতি বছর ৩১ জুলাই শুক্রবার হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছিল। ইসি সচিব জানান, বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি হলেও একটি দলের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় কার্যকর দল রয়েছে ৫৮টি। এর মধ্যে ৩৮টি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১৩টি রাজনৈতিক দল সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। অন্যদিকে ৮টি দল এখনো কোনো ধরনের সাড়া দেয়নি। যেসব দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়নি বা কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি, তাদের আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় জবাব সন্তোষজনক না হলে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক জবাবদিহিতা—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাস কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে যাচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ—দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কমিশন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিশন প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি।


