রাজধানীর ঢাকা কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল তিনটার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষের পর নিউমার্কেট এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। যদিও ককটেল বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনা ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘটেছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিয়মিতভাবে পুলিশ মোতায়েন থাকে না। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়। আহতদের সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রভাব রয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওই সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং ছাত্রশক্তির সদস্যদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ পরে ঢাকা কলেজেও ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ঢাকা কলেজের সামনের প্রধান সড়কে নেমে মিছিল করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবস্থান নেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে।
এদিকে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বা এর সঙ্গে সংঘর্ষের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুরো নিউমার্কেট ও ঢাকা কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। তাই শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



