সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার সকালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, নানা ধরনের সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তাঁর মতে, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সেই কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশের গ্যাস সরবরাহ এবং বিভিন্ন কলকারখানার কার্যক্রমেও পড়েছে।
রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর যাতে সংকটের প্রভাব আরও বেশি না পড়ে, সে বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রিজভীর বক্তব্যে একদিকে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির চাপ মোকাবিলার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটির প্রভাব যাতে শিল্পকারখানা ও সাধারণ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। অর্থাৎ সংকটের সময় একদিকে অর্থনীতি ও শিল্প খাত সচল রাখা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের সংকট নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতে এর প্রভাব কীভাবে কমানো সম্ভব হবে—তা আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রিজভী স্পষ্ট করে বলেছেন, সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখে সরকার পরিচালনার ওপরই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।


