প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তবে জবাব দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেননি। চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘গুপ্ত’ বলতে কাদের বোঝায়, তার নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তোলেন। এ সময় সাম্প্রতিক একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, সরকারি দলের লোকেরা এখন সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ছে এবং চুরি-ছিনতাই করছে। তাঁর দাবি, কয়েক দিন আগে ঢাকা বিমানবন্দরে একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা প্রথমে নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দিলেও ধরা পড়ার পর তাঁদের বিএনপির লোক হিসেবে পাওয়া গেছে।
এরপর ‘গুপ্ত’ শব্দটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, যে ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তাঁর দৃষ্টিতে সেই ব্যক্তিই ‘সবচেয়ে বড় গুপ্ত’। তবে তাঁর তোলা এসব অভিযোগের বিষয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে একই দিন বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গটি সামনে আনেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থায় ছিল, এখন তাদের মধ্য থেকেই কেউ দেশে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না। বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় ওই দলটি ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করেছিল। পরে সংশ্লিষ্ট দলের লোকজনই বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে পুরো বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের নাম বলেননি তারেক রহমান।
দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, তাদের পরিচয় জনগণের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
তারেক রহমান কোনো দলের নাম না বললেও তাঁর বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘গুপ্ত’ শব্দটি নিয়ে পাল্টা অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতের আমির।
শফিকুর রহমানও তাঁর বক্তব্যে তারেক রহমানের নাম নেননি। ফলে দুই শীর্ষ নেতা সরাসরি একে অপরের নাম উল্লেখ না করলেও একই দিনে ‘গুপ্ত’ শব্দকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী জামায়াতের রাজনৈতিক বক্তব্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করা একটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিকেই ‘সবচেয়ে বড় গুপ্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এই বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য বিভিন্ন দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শেষে লালদীঘির ময়দানে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সমাবেশেই শফিকুর রহমানের বক্তব্যে নতুন করে আলোচনায় আসে ‘গুপ্ত’ প্রসঙ্গটি।


