দেশে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলামোটর থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এনসিপির সোমবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যৌথভাবে বিক্ষোভের আয়োজন করছে। কর্মসূচিতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে বিক্ষোভ থেকে নতুন কোনো দাবি বা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন হিসাবে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।
এর আগে ৩১ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সেপ্টেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারিত ছিল। পরে ২০ সেপ্টেম্বর নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। পাশাপাশি বিমার প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে। এসব কারণে সরকার দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট হবে বলেও স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন এর বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে আগের মূল্য বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও পৃথক বিবৃতিতে মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তা প্রত্যাহারের দাবি করেছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবি।
জ্বালানির নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বনানী কার্যালয়ে বাসের ভাড়া নিয়ে মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই এনসিপি রাজপথে বিক্ষোভের কর্মসূচি দিল। দলটির ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলামোটর থেকে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের প্রতিবাদে মিছিল শুরু হবে।



