ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১২ মার্চ। এর প্রায় সাত মাসের মধ্যেই গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছেন দুই সংসদ সদস্য। একজন সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলাম, অন্যজন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তবে দুই ঘটনায় দলীয় ও সংসদীয় পরিণতি হয়েছে ভিন্ন।
গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে চার দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেন আদালত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এরও আগে গত জুলাইয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুলকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরে জামায়াতে ইসলামী জানায়, সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি পরদিন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকেও জানায় জামায়াত। তবে বহিষ্কারের পরও গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তাঁর এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংসদের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের অপেক্ষার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অন্যদিকে ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
এরপর ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তাঁর পদত্যাগপত্রে তিনি ‘সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
পদত্যাগের পর একই দিন সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ১ অক্টোবর থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন বা মহিলা আসন-২৩ শূন্য হয়েছে।
ফলে দুই সংসদ সদস্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে একটি স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গাজী নজরুল ইসলাম দল থেকে বহিষ্কৃত এবং মামলায় গ্রেপ্তার হলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় তাঁর সংসদীয় আসন ইতিমধ্যে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে দুই ঘটনার অভিযোগের প্রকৃতি ও আইনি অবস্থান এক নয়। গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে, আর রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনায় এসেছে। তাই দুই ঘটনাকে সরাসরি একই আইনি মানদণ্ডে বিচার না করে দলীয় ব্যবস্থা, সংসদীয় অবস্থান এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।

