ছয় ম্যাচে গোলমুখে শট মাত্র সাতটি। অবিশ্বাস্য হলেও সেই সাত শটের প্রতিটিই জালে পাঠিয়েছেন ফেরান তোরেস। বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর নতুন ক্লাবে যেন সম্পূর্ণ অন্য রূপে দেখা যাচ্ছে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডকে।
পিএসজির হয়ে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন তোরেস। এই সময়ে গোলমুখে সাতটি শট নিয়ে করেছেন সাত গোল। অর্থাৎ তাঁর প্রতিটি শটই পরিণত হয়েছে গোলে। একজন স্ট্রাইকারের জন্য এর চেয়ে কার্যকর শুরু আর কী হতে পারে!
পরিসংখ্যানটি আরও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে তোরেস পিএসজির নিয়মিত মূল স্ট্রাইকার না হওয়ায়। বেশির ভাগ সময় তাঁকে বদলি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সীমিত সময় মাঠে পেয়েও সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রায় নিখুঁত তিনি।
বার্সেলোনায় থাকাকালে তোরেসকে আক্রমণভাগের বিভিন্ন পজিশনে খেলতে দেখা গেছে। কখনো উইংয়ে, কখনো আবার সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে পিএসজিতে এসে গোল করার দক্ষতাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠছে।
নতুন ক্লাবে একজন ফুটবলারের মানিয়ে নিতে সাধারণত কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। নতুন সতীর্থ, নতুন কৌশল ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করতে হয়। কিন্তু তোরেসের ক্ষেত্রে অন্তত গোলের হিসাবে সেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই নিয়মিত জালের দেখা পাচ্ছেন তিনি।
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় তাঁর শটের কার্যকারিতা। ফুটবলে একজন ফরোয়ার্ডের নেওয়া প্রতিটি শট গোলে পরিণত হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তোরেস এখন পর্যন্ত পিএসজির হয়ে গোলমুখে সাতটি শট নিয়েছেন এবং সাতবারই সফল হয়েছেন। ফলে তাঁর শট-টু-গোল রূপান্তরের হার দাঁড়িয়েছে শতভাগ।
মাত্র ৩২৫ মিনিটে সাত গোলের হিসাব করলে গড়ে প্রায় প্রতি ৪৬ মিনিটে একটি করে গোল করেছেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। আবার ছয় ম্যাচে সাত গোল মানে ম্যাচপ্রতি একটিরও বেশি গোল। যদিও মৌসুমের এই পর্যায়ে নমুনা খুবই ছোট, তবু পিএসজিতে তাঁর শুরুর কার্যকারিতা বোঝাতে সংখ্যাগুলো যথেষ্ট।
আর এখানেই তোরেসের বর্তমান পারফরম্যান্স পিএসজির জন্য বাড়তি স্বস্তির। মূল একাদশে নিয়মিত না খেলেও বদলি হিসেবে নেমে গোল এনে দিতে পারছেন তিনি। দীর্ঘ মৌসুমে আক্রমণভাগের একজন বিকল্প খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স যেকোনো দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
বার্সেলোনা অধ্যায় পেছনে ফেলে পিএসজিতে নতুন যাত্রার শুরুটা তাই গোলের দিক থেকে দুর্দান্ত হয়েছে তোরেসের। তবে সাত শটে সাত গোলের এই শতভাগ সাফল্য কত দিন ধরে রাখতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত তাঁর পরিসংখ্যান একটাই কথা বলছে—সুযোগ যতটুকুই আসুক, সেটিকে গোলে পরিণত করতে কোনো ভুল করছেন না ফেরান তোরেস।


