রাজনীতির মাঠে আরেকটি বড় চমক। দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলনের মুখ, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন এবার সরাসরি ক্ষমতার কেন্দ্রে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে, যাতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ গোলাম রব্বানী। আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই সুসংবাদ নিজেই জানিয়েছেন রাশেদ খাঁন।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। রাশেদ খাঁনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকা যেকোনো কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। যোগদানের তারিখ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর পুরো মেয়াদকাল, অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, যেটি আগে ঘটবে, ততদিন পর্যন্ত এই দায়িত্বে বহাল থাকবেন তিনি। অর্থাৎ এই নিয়োগ পুরোপুরি চুক্তিভিত্তিক এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আস্থার ওপর নির্ভরশীল।
রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক জীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে। এক সময় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও পরে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে থেকে তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বরে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের হাত থেকে ফুল নিয়ে সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রাশেদ খাঁন, যদিও সেই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।
নির্বাচনে হারের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাশেদ খাঁন কি আবার গণঅধিকার পরিষদে ফিরে যাবেন, নাকি বিএনপিতেই থেকে যাবেন? সেই সময় তিনি নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথচলা বিএনপির সঙ্গেই থাকবে। এবার সেই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রতিদান পেলেন তিনি, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সচিব পদমর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিয়োগ শুধু একজন ব্যক্তির প্রাপ্তি নয়, বরং বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি বার্তা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে প্রভাব রাশেদ খাঁনের রয়েছে, ছাত্র রাজনীতির মাঠে যে পরিচিতি তিনি অর্জন করেছেন, তাকে এবার সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোর ভেতরে টেনে আনল বিএনপি সরকার। আগামী দিনে ছাত্র-তরুণ সমাজের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক মাঠ ব্যবস্থাপনায় রাশেদ খাঁনের এই নতুন ভূমিকা কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর সবার।

