বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতাকে নতুন করে গতি দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মেট্রোরেলের দুটি বড় প্রকল্প এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা—সব মিলিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চায় সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মেট্রোরেলের লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পকে ঘিরে জাপানি কোম্পানিগুলোর উচ্চ ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ব্যয় নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সে সময় প্রকল্পগুলোর প্রক্রিয়াগত কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়।
তবে নতুন সরকার সেই স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকল্প দুটি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, জাপানের অর্থায়নেই মেট্রোরেলের লাইন-১ ও লাইন-৫ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় কমাতে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।
এ লক্ষ্যে সাত সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজ হবে প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনা করা এবং দর-কষাকষির মাধ্যমে ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনার উপায় খুঁজে বের করা।
শুধু মেট্রোরেল নয়, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্বও জাপানকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাপানের অর্থায়নেই মেট্রোরেলের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে প্রকল্পের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে জাইকার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের আশা, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ বিষয়ে সমাধান হবে।

