নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই কঠিন সময়ে নেপালের জনগণের পাশে থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শোকবার্তায় স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শোকবার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২৬ আগস্ট উত্তর নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন। দুর্যোগে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্ভোগে পড়া মানুষের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই দুঃসময়ে বাংলাদেশ নেপালের জনগণের পাশে রয়েছে। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
নেপালের জনগণ দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস নেপালের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে। বাংলাদেশ সরকারের শোকবার্তায় প্রাণহানির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশটির প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ শুধু শোক প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; প্রয়োজন হলে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ও নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ। দুর্যোগের এই সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় নেপালের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে শোকবার্তায় স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, নেপালের জনগণ তাদের দৃঢ়তা ও সাহসের মাধ্যমে এই ভয়াবহ দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে। এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন দেখা দিলে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

