এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে স্কেলের আওতায় থাকছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো তাঁরাও নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। নতুন মূল বেতনের হিসাব কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগের উপসচিব জামিলা শবনম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। ফলে সরকার অনুমোদিত নবম জাতীয় পে স্কেলের সুবিধাও তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলের আওতায় আসবেন কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পর দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাওয়া নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়। একই দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন।
এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫ শতাংশ বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ৫ শতাংশ অথবা ন্যূনতম এক হাজার টাকা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। সে সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সুবিধার আওতায় আনতে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে পৃথক আদেশ জারি করা হয়েছিল।
এবারও জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণ করার কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নবম পে স্কেলের আওতায় থাকছেন বলে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলো।
দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন পে স্কেল না আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও নতুন বেতন কাঠামোর দাবি ছিল।
নতুন বেতন কাঠামোয় আগের মতোই মোট ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। গ্রেডভেদে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।
নতুন স্কেল অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১১ হাজার ৭৫০ টাকা।
অন্যদিকে সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে।
তবে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় পুরো ব্যবস্থা একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে নতুন মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে নতুন কাঠামোর আওতাভুক্ত ভাতাগুলো একযোগে কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিধান উল্লেখ করে চলতি সপ্তাহেই গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। গেজেট প্রকাশের পর নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন পে স্কেল প্রযোজ্য হবে কি না—মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্যের পর যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, অর্থ বিভাগের উপসচিব ও শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর তা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে স্কেলের বর্ধিত বেতন কাঠামোর সুবিধা পাচ্ছেন।

