ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দুই স্থানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে জগন্নাথ হল ও শহীদ মিনার আবাসিক এলাকা-সংলগ্ন সড়কে দুটি এবং টিএসসি এলাকায় আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এসব বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিস্ফোরণের পরপরই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।
সমাবেশে তিনি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ক্যাম্পাসে আবারও ‘গুপ্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম’ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নিশ্চিত বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
শিপন আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর দেশের যে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। যেকোনো ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার কথাও বলেন তিনি।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সংগঠনটির নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং তদন্তের দাবি করেন।
ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে প্রায় একই সময়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে ককটেলগুলো বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

